শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বন্ধ হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে মিল চালুর ক্ষেত্রে আখচাষি, শ্রমিক ও লাভজনক পরিচালনা এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিনিকল পরিদর্শন শেষে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে বর্তমানে ছয়টি চিনিকল বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা নয়টি চিনিকলও কাঙ্ক্ষিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। অধিকাংশ মিল দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, একেকটি প্রতিষ্ঠানের বয়স ৫০, ৬০, এমনকি ৭০ বছর পার হয়ে গেছে। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি দেশের মানুষের সম্পদ রক্ষা ও সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য। লক্ষ্য হচ্ছে বন্ধ থাকা জুট মিল, টেক্সটাইল মিল এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বড় বড় কলকারখানাগুলো আবার চালু করা।
তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, কোথাও সংস্কার এবং কোথাও বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে। অনেক মিল বর্তমান অবস্থায় চালানো সম্ভব নয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, মিল চালুর আগে সরকার তিনটি প্রাথমিক শর্ত নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আখচাষিদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, মিলকে লাভজনকভাবে পরিচালনা করতে হবে- যাতে প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়েই প্রতিষ্ঠান চলতে পারে। মিলের টাকায় যদি মিল না চলে, তাহলে সেটি বেশি দিন টিকবে না। জোর করে চালালে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বন্ধ মিলগুলো চালু হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। বেকারত্ব কমিয়ে দারিদ্র্য হ্রাস করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে, যাতে তিনটি শর্ত বজায় রেখেই মিলগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।