শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:২০ এএম

সুনামগঞ্জের এক ধর্ষণ মমালায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ওড এক লাখ টাকা জরিমান এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক(জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন ।

যাবজ্জীবান কারাদ- প্রাপ্ত হলেন, জেলার ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মতিউর রহমান মতি, একই গ্রামের মো. খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন এবং একই উপজেলার সিংচাপইর ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের বিল্লাল হোসেন।

সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. শামছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬ টারদিকে নিজের বাড়ি থেকে ওই তরুণী পাশর্^বর্তী জিয়াপুর নানার বাড়িতে যাওয়ার সময় হাসামপুর পয়েন্টে সোয়েবের দোকানের পাশে গেলে একটু দূর থেকে হাতে ইশারা দিয়ে আসামি মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন কিছু দূরে নিয়ে আসেপাশে কোন লোকজন না থাকায় তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে সিংচাপইর একটি বাংলা বাড়িতে নিয়ে জোর করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে পাশ^বর্তী কামারগাঁও বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে আবার বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে গেলে বাড়িতে কেউ না থাকায় সেখানে বিল্লাল হোসেন ও কামরান হোসেন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। বাড়িতে ওই তরুণীকে না দেখে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা এলাকায় খোজাখুজি শুরু করেন। এসময় স্থানীয় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে মতিউর রহমান, দিলদার হোসেনকে আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিল্লাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ ওই যুবতীকে উদ্ধার করে। পরদিন ওই তরুণীর বড় ভাই বাদি হয়ে ছাতক থানায় ৫জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আসমি মতিউর রহমান, দিলদার হোসেন, বিল্লাল হোসেন ওকামরান হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে।

সাক্ষ্য প্রমানে সন্দেহাতীতভাবে আসামিদের অপরাধ প্রমানীত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামি মতিউর রহমান, দিলদার হোসেন ও বিল্লাল হোসেন তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং এক লাখ করে টাকা জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন বিজ্ঞ বিচারক। একই সাথে সাক্ষ্য প্রমানে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমানীত না হওয়ায় আসামি কামরাহ হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদানের আদেশ দেন। জরিমানার টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপুরণ বাবদ প্রদানের নির্দেশও দেন আদালত। আসামি বিল্লাল হোসেন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com