বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

‘হ্যাঁ’ ভোটেই ফ্যাসিজমকে বিদায় জানাতে হবে: ধর্ম উপদেষ্টা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

ধর্ম বিষয় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে রাজনৈতিক সংষ্কৃতির পরিবর্তন আসবে। সর্বগ্রাসী ফ্যাসিজম থেকে আমরা মুক্তি পাব। স্বৈরতান্ত্রিক শাসন থেকে আমরা রেহাই পাব। অতীত ইতিহাস বলে ক্ষমতায় একবার বসলে আমরা চেয়ার ছাড়তে চায় না। এটার পরিবর্তন ঘটবে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও সুনামগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ উলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসচেতনতামূলক সভায় উপদেষ্টা তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের চেহারা পাল্টে যায়। মানুষের আশাআঙ্খার পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটা রেফারেন্ডাম হয়েছে। তিনি বলেন, এই সিলেটে, সুনামগঞ্জে, হবিগঞ্জে ও মৌলভীবাজারে ১৯৪৭ সালের ৬ এবং ৭ জুলাই গণভোট হয়েছিল। এই অঞ্চলের মানুষ পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে নাকি আসােেমর পক্ষে থাকবে। এই গণভোট ৫৬ পয়েন্ট ৫৬ পারসেন্ট মানুষ পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর ৪৩ পয়েন্ট ৪৪ পারসেন্ট মানুষ আসামের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ৫৬ পয়েন্ট ৫৬ পারসেন্ট মানুষ পাকিস্তারে পক্ষে ভোট দেয়ায় সিলেট অঞ্চল পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। পাকিস্তারে অংশ হওয়ার কারণে আজ আপনারা স্বার্ধীন বাংলাদেশের অধিবাসী। তিনি বলেন, হায়দারাবাদ জুড়াগড় ভারতের পক্ষে ভোট দেয়ায় তারা আজও স্বাধীন হতে পারেনি। আপনার পাকিস্তারে পক্ষে ভোট দেয়ায় আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক আমরা।

উপদেষ্টা আরও বলেন, আমি আপনাদের কাছে দু’টি বার্তা নিয়ে এসেছি। একটি হচ্ছে ভোট অপরটি হচ্ছে গণভোট। ভোট আপনরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। যাকে আপনার পছন্দ তাকে নির্বিঘেœ আপনারা ভোট দেবেন। আমি বলব গণভোটে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিন ভোটও হবে গণভোটও হবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করে দেশকে স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে বাচাঁতে হবে। এসময় ইমামদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, মিম্বরে দাড়িয়ে কোন রাজনৈতিক দল বা কোন প্রার্থীর পক্ষে কথা বলবেন না।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের নামে বিগত তিনটি নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন ছিল। এই প্রথম অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহনমূলক ও ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। অতি উৎসাহ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে আমরা এ নির্বাচন করব। তিনি বলেন, অতীতে ভোটের দিন স্কুলের মাঠে ছাগল ছড়াতে দেখেছি। এবার ভোটের দিন স্কুলের মাঠে আর ছাগল ছড়বে না। এবার জনগণের অংশগ্রহনের ভোট কেন্দ্রগুলো মুখরিত হবে। ভোট কেন্দ্রে আমরা সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি। পুলিশের বুকে ক্যামেরা অনকরা থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার আবু ছালেহ মুহম্মদ ইউছুফ-এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান,সুনামগঞ্জ প্রেসবিটানিয়া সংঘের সভাপতি ন্যাথানিয়েল এডইউন ফেয়ারক্রস, পুরোহিত সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন প্রমুখ।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-৪(সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শামস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী নির্বাচনে লেভেল প্লেইন ফিল্ড রাখার আহ্বান জানান।

পরে একই মঞ্চে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন।

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com