বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:২২ pm
  • ৭ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় লেখিকা ই জিন ক্যারল ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বুঝে পেয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) জুরির দেওয়া পাঁচ মিলিয়ন বা পঞ্চাশ লাখ ডলারের মূল ক্ষতিপূরণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া সুদের টাকা একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যারলকে দেওয়া হয়েছে।

ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান এই অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে বলেছেন যে তারা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে ক্যারল ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ হাতে পেয়েছেন। অর্থ হাতে পাওয়ার পর বিরাশি বছর বয়সী সাবেক এই পরামর্শ কলাম লেখক ও প্রখ্যাত লেখিকা নিজে তার একটি লেখায় রসাত্মকভাবে মন্তব্য করে লিখেছেন যে ‘দ্য ইগল হ্যাজ ল্যান্ডেড’ অর্থাৎ বহুল প্রতীক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।

আইনি নথি থেকে জানা গেছে যে ২০২৩ সালের আদালতের রায়ের পর থেকেই এই বিশাল পরিমাণ অর্থ একটি বিশেষ এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বা দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সিভিল বা দেওয়ানি মামলার এই রায়টি বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়ার পর ফেডারেল বিচারক লুইস এ কাপলান এই অর্থ অবমুক্ত করার চূড়ান্ত আদেশ দেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা এই অর্থ প্রদান স্থগিত করতে শেষ মুহূর্তে একটি জরুরি আবেদন করলেও আদালত তা এক বাক্যে নাকচ করে দেয়।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এবং উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্যারলের আইনজীবীরা আদালতের নথিতে উল্লেখ করেছেন যে এই প্রাপ্ত অর্থ ক্যারল তার অবসরের জন্য নির্ধারিত তহবিলে জমা রাখার পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্পের আইনি দল এই অর্থ প্রদান বাতিল বা প্রত্যাহারের দাবিতে ইতিমধ্যে আরেকটি নতুন আপিল আবেদন দায়ের করেছে।

পূর্ববর্তী মামলার বিবরণ অনুযায়ী নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ১৯৯৬ সালে ট্রাম্প ওই লেখিকাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সময় ক্যারল তার একটি স্মৃতিকথা বা বইয়ে এই ঘটনা প্রকাশ করলে ট্রাম্প তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন যে ক্যারল পুরোপুরি মিথ্যা বলছেন এবং তিনি তার পছন্দের নারী নন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যারল মানহানির মামলা করেন।

ক্যারল নিউইয়র্কের পরিবর্তিত আইনের সুযোগ নিয়ে এই পুরনো অপরাধের বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যেখানে দীর্ঘ সময় পর ভুক্তভোগীদের মামলা করার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প অবশ্য মূল শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এই মামলার বাইরে ২০২৪ সালের আরেকটি পৃথক বিচারের রায়ে ক্যারলকে দেওয়া তিরাশি মিলিয়ন বা আট কোটি ত্রিশ লাখ ডলারের অন্য একটি বড় অঙ্কের মানহানির ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন সচল রেখেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com