বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা বাস্তবায়নে মাঠে শিক্ষা প্রশাসন

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৮ pm
  • ৯ Time View

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষে আকর্ষণীয় পাঠদান ও শিক্ষার সার্বিক গুণগত মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ১৫ দফা অনুশাসন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে শিক্ষা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে স্কুল-কলেজে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের পাঠদানের লাইভ মনিটরিং এবং একটি ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানো, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনগুলো একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দৃশ্যমান করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিমাত্রায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও জবাবদিহির অভাবে শিক্ষকেরা দায়িত্বহীন হয়ে পড়ছেন, যার ফলে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বিগত দিনে দেখা গেছে শিক্ষকেরা ক্লাসরুমে পাঠদানের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হয়েছেন বেশি। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রাখা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা নির্দেশনায় যা আছে:

গত ২৮ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে এক পর্যালোচনা সভায় অংশ নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫ দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত কার্যবিবরণী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

নির্দেশনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:-

শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রাখতে আচরণবিধি সংশোধন এবং তাঁদের শিক্ষাবহির্ভূত কাজ থেকে মুক্ত রাখা।

দেশব্যাপী অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অনলাইনে পাঠদান তদারকি করা।

দেশসেরা শিক্ষকদের ক্লাস সবার কাছে পৌঁছাতে ডেডিকেটেড ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠা।

গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ঘাটতি মেটানো এবং শিক্ষকদের ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালু করা।

কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের পদক ও পুরস্কার প্রদান।

প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে রয়েছে মাউশি। গত ২০ আগস্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উইংভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনসহ সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

মাউশির অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর থেকেই এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পিডিএস-এ আপডেট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ডিএমএস অ্যাপ’-এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি লাইভ ভিডিও কলে মনিটরিং করবেন মাউশির সহকারী পরিচালকেরা।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা অনুশাসন মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অত্যন্ত দিকনির্দেশনামূলক। আমরা প্রতিটি উইংকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কাজ ভাগ করে দিয়েছি। শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ, অ্যাপভিত্তিক লাইভ মনিটরিং ও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।’

অন্যদিকে, অনুশাসন বাস্তবায়ন তদারকির ফোকাল পারসন ও মাউশির উপপরিচালক (এইচআরএম) মো. শওকত হোসেন মোল্ল্যা জানান, সিদ্ধান্তগুলো শতভাগ বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি কিছু সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে এবং কারিগরি বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com