বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

উন্নয়নের বিনিময়ে নৌকায় ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ৮:৪৪ pm
  • ৫ Time View

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা আমাদের নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আমি আপনাদের ওয়াদা চাই, সেই নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনারা দেশের সেবা করার সুযোগ দেবেন কিনা হাত তুলে ওয়াদা করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর জয় বাংলা স্লোগান ও ব্ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিষিদ্ধ ছিল। ইতিহাস বিকৃতি, হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্র হয়েছে। হাজার হাজার সেনা-বিমান বাহিনীর অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক ক্যু হয়েছে।এই তো ছিল তখনকার অবস্থা। আর এসব হত্যাকাণ্ডে জিয়া, মোশতাক এরা সবাই খুনি। বিচার চাওয়ার অধিকার আমার ছিল না। মা, বাবা, ভাই হারিয়েছি; বিচার চাইতে পারব না। তারপরও সবকিছু মাথায় নিয়ে ফিরে এসেছি বাংলার জনগণের কাছে। কারণ এ জাতির জন্য আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। কাজেই আমার একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েই বারবার ক্ষমতায় এসেছি। আর ক্ষমতায় এসেছি বলেই এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। যে বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করেছিল, বিদেশ থেকে পুরোনো কাপড় এনে এ দেশের মানুষকে পরাতো, মানুষের পেটে খাবার ছিল না, মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, রোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছে। যেখান থেকে বিনা পয়সায় ৩০ ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়।

বিএনপির সমোলোচনা করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। এটা আওয়ামী লীগ সরকারই আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছে। আর বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকতে কী দিয়েছে? দিয়েছে অস্ত্র, দিয়েছে খুন, দিয়েছে হত্যা। এ যশোরে শামসুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। মুকুলকে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় মঞ্জুরুল ইমাম, মানিক সাহা, বাবু… সাংবাদিকদের একে একে হত্যা করা হয়েছে। শুধু রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি তো আর কিছুই দিতে পারেনি দেশের মানুষকে। আর নিজেরো লুটপাট করেছে। নিজেরা মানুষের অর্থ পাচার করেছে, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। নিজেদের উন্নয়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়া যখন মারা যায় কোনো কিছু রেখে যায়নি; ভাঙা সুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জি ছাড়া। কিন্তু সেই ভাঙা সুটকেস হয়ে গেল জাদুর বাক্স। যেই বাক্স দিয়ে কোকো-আর তারেক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আর পাচার করেছে বলেই তার শাস্তি হয়েছে। আজকে তারেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার করার অপরাধে তার ৭ বছরের জেল আর ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। অস্ত্র চোরকারবারি করতে গিয়ে ১০ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে ধরা খেয়েছে। সে কারণেও তার সাজা হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকেসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই মামলায় সে সাজাপ্রাপ্ত। আর খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত। আর সাজাপ্রাপ্ত যে দলের নেতা সে জনগণকে কী দেবে। তারা কিছুই দিতে পারে না, শুধু মানুষের রক্ত চুষে খেতে পারে। এটাই হলো বাস্তবতা।

বাংলাদেশ যাতে পৃথিবীর বুকে সম্মান নিয়ে চলতে পারে সেভাবেই দেশকে উন্নয়ন করেছি মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, আজকে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, যশোরে বিএনপি সরকার কোনো উন্নয়ন না করলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যশোরের উন্নয়ন করেছে। পঁচাত্তরের পর এ দেশে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি, কিন্তু আওয়ামী লীগ যখন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকে এ দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

রিজার্ভ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নাই। অনেকে বলেন, ব্যাংকে টাকা নাই। ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে। চোরের জন্য সুযোগ করে দেওয়া। কারণ ব্যাংকে টাকা নেই কথাটি ঠিক না। গতকালও আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমাদের এ বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। প্রত্যেকটি ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে। আমদের রেমিট্যান্স আসছে। বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের ট্যাক্স কালেকশন বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী আছে।

সরকার কৃষকের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। দুই কোটি কৃষক সেই উপকরণ কার্ড পায়। এক কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তাদের টাকা তাদের কাছে চলে যায়। ৯০ টাকায় সার কিনে ১৬-১৭ টাকায় আমরা সার দিচ্ছি।

যশোরে উন্নয়নের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই যশোর থেকে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। এখানে নির্মাণ হয়েছে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি পার্ক; যেখানে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। যেখানে বিদেশ থেকে অনেক বিনিয়োগ আসছে।

তিনি বলেন, যশোরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া এসে অনেকগুলো বন্ধ করে দেয়। আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছি। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সবগুলোর উন্নয়নে কাজ করেছি। সাক্ষরতার হার যেখানে বিএনপির সময়ে ৪৫ ভাগ ছিল, সেটিকে আমরা ৭৫ ভাগে উন্নীত করেছি।

সমাবেশে পদ্মা সেতু ও মধুমতি সেতু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। যশোর বিমানবন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি যশোর-চট্টগ্রাম নতুন রুট চালু করার কথা বলেন।

অভয়নগরে ইপিজেড করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জমি নেওয়া হয়ে গেছে। ৫শ একর জমি আমরা নিয়েছি। সেখানে ৪শ শিল্প প্লট হবে। বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, ভাঙা-যশোর-বেনাপোল, খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, যশোর-খুলনা-মংলা এ রাস্তাগুলো সব জাতীয় সড়কে উন্নীত করে দিচ্ছি এবং পদ্মা সেতু থেকে যাতে যশোরে সরাসরি আসতে পারেন। ভাঙা-যশোর রাস্তাও মহাসড়কে উন্নীত হবে। ২০১০ সালে যশোরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৫শ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ এখন চলমান আছে। এটা আমরা নির্মাণ করে দিচ্ছি আপনাদের চিকিৎসাসেবা যাতে ভালো হয়। প্রত্যেকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ বেডের ছিল, আমরা তা ৫০ বেডে উন্নীত করে দিয়েছি।

যশোর স্টেডিয়ামকে আরও উন্নয়ন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। এটা মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসে লিপ্ত হওয় যাবে না। এ দেশকে গড়ে তুলতে যুবকদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com