শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে পর্যাপ্ত ধান-চাল মজুত রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২, ১০:০০ পিএম

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত ধান-চাল মজুত রয়েছে। খাদ্য ঘাটতি ও দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে আগারগাঁও পর্যটন কনফারেন্স হলে ‘বায়োফর্টিফাইড জিঙ্ক রাইস অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

জনগণের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অযথা আতঙ্কিত হবেন না। আমরা সচেতন আছি, কেউ অবৈধ মজুত করতে পারবে না, করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তার মতে, বায়োফর্টিফাইড জিঙ্ক রাইসের মাধ্যমে দেশের মানুষের জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। পুষ্টিহীনতা দূর করতে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ বায়োফর্টিফাইড জিঙ্ক সমৃদ্ধ চাল সম্পর্কে বা এর গুণাগুণ সম্পর্কে মোটেই সচেতন নন এবং তারা এ জিঙ্ক সমৃদ্ধ চাল বা ধান সম্পর্কে জানেনও না। জিঙ্ক সমৃদ্ধ চাল সম্পর্কে ভোক্তাকে আকৃষ্ট করতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকাল আমরা রাসায়নিক ফর্মুলায় তৈরি করা জিঙ্ক খাচ্ছি, কিন্তু ভাতের মাধ্যমে যে এই উপাদানটি আমরা প্রাকৃতিকভাবে পেতে পারি তা জানি না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা দরকার।’

সাধন চন্দ্র বলেন, দেশের মিলাররা ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী চিকন চাল তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করে থাকে। কারণ, গ্রাহকরা জিংক চালের জন্য উৎসাহ দেখান না এবং কৃষকরাও এ ধান চাষ করতে আগ্রহী হন না। কারণ, জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের চাল একটু মোটা হয়ে থাকে। গ্রাহক বা ভোক্তা চিকন আর চকচকে চাল পছন্দ করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ চালেও পুষ্টি থাকে, তবে চাল চিকন করতে গিয়ে পুষ্টির অংশ ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। সারা দেশে বছরে চার কোটি টন ধান ক্রাশিং হয়। মিল মালিকদের তথ্যানুযায়ী, ‘চাল চিকন করতে গিয়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ চাল ক্ষয় হয়ে যায়। সে হিসাবে বছরে ১৬ লাখ টন চাল নষ্ট হয়ে যায়। এটা না করলে বিদেশ থেকে হয়তো চাল আমদানি করতে হতো না।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. সাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বেনজির আহম্মদ, হার্বেস্ট প্লাসের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম খায়রুল বাশার, খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে বায়োফর্টিফাইড জিঙ্ক রাইস উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১১ জন কৃষক, ৩ জন রাইস মিলার ও খাদ্য বিভাগের ১০ কর্মকর্তাকে পুরস্কার দেয়া হয়।

গেইন ও হার্বেস্ট প্লাসের সহযোগিতায় খাদ্য অধিদফতর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com