বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আরও জনশক্তি রফতানিতে দেশটির সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সেই সঙ্গে অন্তর্র্বতী সরকারের ‘অর্থনীতি সংস্কার’ কর্মসূচিতেও মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বঙ্গভবনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব সহযোগিতা চান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক, কারিগরি সহযোগিতা, রোহিঙ্গা ইস্যু ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যস্থল মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের জনশক্তি মালয়েশিয়ার ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ৫৩ বছরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, মানব সম্পদ যোগাযোগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আসন্ন ২০২৫ সালে আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় মালয়েশিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, মালয়েশিয়ার দক্ষ নেতৃত্বে আসিয়ান আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার’ হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই সফর দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শ্রমশক্তির মালয়েশিয়া গমনের ক্ষেত্রগুলো স্বচ্ছ ও সহজ করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী অন্তর্র্বতী সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের চারজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ ও বাংলাদেশের নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার তার সঙ্গে ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে বৈঠক শেষে একটি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।