বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

আইন সবার জন্য সমান: প্রধান উপদেষ্টা

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৪ পিএম

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিবৃতি দেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ বাংলাদেশের আদালত এমন একটি রায় দিয়েছেন, যা দেশ-বিদেশে প্রতিধ্বনিত হবে। দণ্ডাদেশ ও দোষী সাব্যস্ত করা একটি মৌলিক নীতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্ষমতা যাই হোক, আইন সবার জন্য সমান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার সময় যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পরিবার এখনও শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন, এই রায় তাদের জন্য আংশিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।’

এতে বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে আছি যখন বহু বছরের দমন-পীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে- তরুণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেওয়া, যাদের একমাত্র শক্তি ছিল তাদের কণ্ঠস্বর। দেশের আইন ও রাষ্ট্র এবং নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক বিশ্বাসকে লঙ্ঘন করেছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের মূল্যবোধ: মর্যাদা, স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কোনো সংখ্যা নয়, ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। মাসব্যাপী সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। আজকের রায় তাদের সেই ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যে বিচারব্যবস্থা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহিতার ধারায় পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। পরিবর্তনের দাবিতে যে শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা দাঁড়িয়েছিলেন, তারা এটি বুঝেছিলেন- এবং অনেকে তাঁর জীবনের মূল্য দিয়ে গেছেন; আমাদের আগামী দিনের জন্য তাদের আজের দিনের জন্য উৎসর্গ করেছেন।’

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘সামনের পথ শুধু আইনগত জবাবদিহির নয়, বরং প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনেরও। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেয়—তা বোঝা এবং তাদের সেই বিশ্বাসকে ধারণ করতে পারে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। আজকের রায় সেই পথচলার একটি ধাপ।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলো সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে—ন্যায়বিচার শুধু টিকে থাকবে না, বরং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং স্থায়ী হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com