এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পরীক্ষায় গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। অথচ ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী।
এছাড়া ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিলো ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।
এবার সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৭১.৬৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে যশোর বোর্ডে ৬৬.২৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯.৪৮শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৫৮.৩৩ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩.৬৭ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮.০৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫.৪২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭.৩৯ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে ৬০.৩৫ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ ও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। এর মধ্যে এসএসসিতে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, দাখিলে ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ৫৮.২০ শতাংশ।
যেভাবে ফল জানা যাবে
পরীক্ষার্থীরা অনলাইন, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।
এসএমএসে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘ঝঝঈ’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য এসএমএসের ফরম্যাট হবে: ঝঝঈ উঐঅ জঙখখ ণঊঅজ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঝঝঈ গঅউ জঙখখ ণঊঅজ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঝঝঈ ঞঊঈ জঙখখ ণঊঅজ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।
প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভোকেশনাল ও দাখিলের ফল
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের ÔResultÕ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।
এ ছাড়া result.bteb.gov.bd, educationboardresults.gov.bd ও eduboardresult.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে গ্রেডভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যাবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট নসবন.মড়া.নফ-এর ‘অনলাইন সেবা-০১’ কর্নারে গিয়ে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৬’–এ ক্লিক করেও ফল জানতে পারবে। এ ছাড়া বনসবন.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে ‘উধশযরষবজচঝ ২০২৬’ নির্বাচন করে ‘ঈড়হঃরহঁব’ বাটনে ক্লিক করলে জেলার কেন্দ্রভিত্তিক মাদ্রাসার ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।
পরীক্ষা শেষের প্রায় তিন মাস পর ফল
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ আগস্ট থেকে
ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত অনলাইন মাধ্যম, এসএমএস অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।