দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পল্লীতে পৃথক বজ্রাপাতে মালেক নূর (৪৫) ও আব্দুন নূর(৩৮) নামের দুই কৃষকের মৃত্য হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামের পাশে রমজানপুরের হাওরে ও একই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের পাশে টাংনির হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মালেক নূর উপজেলার ভাটিপড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামের উকিল উদ্দিনের ছেলে ও আব্দুন নূর কুলঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
ভাটিপড়া ইউপি সদস্য এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালেক নূর জমির ধান মাড়াই করতে মাড়াই মেশিন নিয়ে পাশর্^বর্তী রমজানপুরের হাওরে যান। সন্ধ্যা ৭ টারদিকে হঠাৎ বজ্রপাতে আহত হন। সঙ্গে সঙ্গে পাশর্^বর্তী কৃষকরা মালেক নূরকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরার হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুন নূর সন্ধ্যা ৭ টারদিকে পাশ^বর্তী টাংনির হাওর থেকে ধান আনতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রাপাতে মারা যান।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলার শিবচর উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের সোতার পাড় এবং বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শেখপুর এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন-সোতারপার এলাকার আকমল ঢালীর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩৫) এবং শেখপুর এলাকার জেলাউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. রাশেদ মুন্সী (২৫)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিকেলের দিকে ঝড়োবাতাস ও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হতে থাকে। এসময় বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের সোতারপার এলাকার শারমিন আক্তার রান্নাঘর থেকে বসতঘরে যাওয়ার সময় উঠানোর বজ্রাঘাত ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে ফসলের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শেখপুর এলাকার মো. রাশেদ নামের ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত গোলদার বলেন, আমাদের কাছে এখনও খবর আসেনি। খোঁজ নিচ্ছি।
এছাড়া, ঢাকার ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর গ্রামে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে আবুল কাশেম নামে এক মৎস্যজীবি মারা গেছেন।
নিহতের স্বজন আল আমিন বাবু জানান, তার ফুপা আবুল কাশেম মঙ্গলবার বিকেলে বৃষ্টির সময় পাশের গ্রাম কিশোরীনগরে একটি পুকুরে মাছ ধরতে যান। এসময় বজ্রপাতে তিনি মারা যান। তবে নিহতের শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তার দাবি, বজ্রপাতের সময় হয়তো ভয়ে তিনি মারা যেতে পারেন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে বালিথা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নরসিংদীর রায়পুরায় বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে মনোহরদী ও বেলাবতে দুই জন আহত হয়েছেন।
নিহতের নাম জাকির আলী (৪০)। মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার আলীম উদ্দিনের ছেলে, পেশায় পিকআপ ভ্যানচালক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে ঝড়ো হাওয়ার সময় সড়কের পাশেই বসে ছিলেন জাকির আলী। এসময় বজ্রপাতে আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারৈচার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠালে পথেই মারা যান তিনি।
এছাড়াও জেলার বেলাব এবং মনোহরদীতে বজ্রপাতে দুই জন আহতের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন, বেলাব উপজেলার ধুকুন্দী এলাকার দুলাল মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৪০) এবং মনোহরদী উপজেলার আকানগরের কাওছার মিয়ার স্ত্রী ঝুমা আক্তার (২৬)।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. পলাশ মোল্লা জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় রায়পুরার একজন নিহত হয়েছে। এছাড়াও মনোহরদী এবং বেলাব থেকে আগত আকলিমা আক্তারকে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া অপর আহত ঝুমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।