বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

চালের বস্তায় সর্বোচ্চ মূল্য লিখতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ১০:৫৮ pm
  • ৫ Time View

এখন থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল ও গমের বাজারদর নির্ধারণ করে দেবে। মিলগেটে চালের দাম ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা থাকবে বস্তার গায়ে। কোন জাতের ধানের চাল তাও লেখা থাকবে বস্তায়। মিনিকেট নামে যেহেতু কোনো ধান নেই, সেহেতু বাজারে এ নামে কোনো চাল থাকতে পারবে না।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রæয়ারি) বিকেলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খাদ্য, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ কথা বলেন।

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত অপতৎপরতা সত্ত্বেও সরকারের দুর্বল ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এদিন অনেকটা গোপনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সঙ্গে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছি। কৃষি মন্ত্রণালয় আউশ, আমন এবং বোরো-তিন মৌসুমে কোন জেলায় কোন জাতের কি পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে তা জানাবে। ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় তথ্যগুলো খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। ধানের উৎপাদন খরচ কত এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কত তাও জানাবে মন্ত্রণালয়টি। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল ও গমের বাজারদর নির্ধারণ করে দেবে।

সাধন চন্দ্র বলেন, এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করবে। কোন কোন পণ্য আমদানি করা প্রয়োজন তা জানাবে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতি দেবে এবং আমদানি পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। সরকার-নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেউ কেনাবেচা করলে কৃষি বিপণন আইন, ভোক্তা অধিকার আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে এ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা মাঠে নেমেছি, আছি এবং থাকব। আজ (মঙ্গলবার) থেকে এই তিন মন্ত্রণালয় সব ধরণের নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কাজ করবে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, দেশের কোন জেলায় কোন পণ্য কি পরিমাণ উৎপাদন হয় এবং উৎপাদন খরচ কত সে তথ্য সংগ্রহ করবে সরকার। এরপর জেলায় জেলায় সরবরাহে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কত হতে পারে তা নির্ধারণ করে প্রকাশ করা হবে। সরকার-নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেনাবেচা করা যাবে না। প্রতিটি পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ, উৎপাদন খরচ, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য সংযোজন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক চিনি, তেল ও খেজুরের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দু-একদিনের মধ্যে মূল্য নির্ধারণ করে প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও জানান, এই তিন মন্ত্রণালয় ধারাবাহিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। সচিব পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হবে। ফাইল চালাচালি না করে সরাসরি বৈঠক করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে অস্থির বাজার কবে নাগাদ স্বাভাবিক ও স্বস্তি ফিরে আসবে তা পরিষ্কার করে বলতে পারেননি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন এবং দেখুন। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে মনে হয় বাজারে ইতিবাচক একটি প্রভাব পড়ছে। রাতারাতি সব সমস্যার সামাধান অসম্ভব। সময় লাগবে, লাগবে সহযোগিতাও।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com