বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাবি হলে ছাত্রকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ‘ছাত্রলীগের’, পরে অজ্ঞান

অনলাইন ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২, ৫:১১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে প্রথম বর্ষের এক অসুস্থ শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে ডেকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বাতির দিকে তাকিয়ে থাকার শাস্তি দেওয়া হলে এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

গতকাল বুধবার গভীর রাতে বিজয় একাত্তর হলের টিভি রুমে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আকতারুল ইসলাম।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তিনি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল বাছিরের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কামরুজ্জামান রাজু, ইতিহাস বিভাগের হৃদয় আহমেদ কাজল, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইয়ামিম ইসলাম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের ওমর ফারুক শুভ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাইফুল ইসলাম এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাইফুল ইসলাম রোমান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।

হল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে ভুক্তভোগী আকতারুল ইসলামের বাবা স্ট্রোক করেন। সেকারণে ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ ছাড়া শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তিনি বুধবার গেস্টরুমে যেতে পারেননি। অসুস্থতার কথা শুনেও তাকে রাত দশটার দিকে জোর করে হলের টিভিরুমে ডেকে আনা হয়। গেস্টরুমে না আসায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দশ মিনিট লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকার শাস্তি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আকতারকে রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রুমে গিয়ে তার বুকের ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার রুমমেটরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে তার ইসিজি করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। পরে চিকিৎসা শেষে হলে বিশ্রাম নিতে বলেন ডাক্তার।

এই বিষয়ে আকতার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাকে জোর করে গেস্টরুমে ডেকে নেওয়া হয়। আমি অসুস্থ ছিলাম। গেস্টরুমে গিয়ে বাতির দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়। পরে আমি অস্স্থু হয়ে পড়ি। ভাইরা আমাকে ভয় দেখিয়ে হাসপাতালে আসার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন। আমি খুব ভয়ে আছি। এখন যদি আমাকে হল থেকে বের করে দেয়। ’

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল বাছির বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।

মারধরের বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউনুস বলেন, ‘এই ধরনের নির্যাতন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। গেস্টরুমের কোনো নির্দেশনাও ছিল না। যারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমরাও তাদের শাস্তি চাই। ’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদেরও মৃত্যু হয় বুয়েট শাখার ছাত্রলীগকর্মীদের নির্যাতনে। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় করা হত্যা মামলায় বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তা আমলে নিয়ে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ২২ জনকে রায়ের দিন আদালতে আনা হয়। পলাতক তিনজন। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com