বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগ শেষ, তবে এ কোনও স্বস্তির বার্তা নয়। গরমে এ বার ফুটবে গোটা বিশ্ব। এমনটাই বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর যুগ শেষ। গ্লোবাল বয়েলিং-এর যুগ এসে গিয়েছে।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে একটি আলোচনাসভায় এমনই মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে জোরদার পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রনেতাদের।
গুতেরেস জানান, উত্তর গোলার্ধ জুড়ে ‘ভয়াবহ গরম’ পড়েছে। তার কথায়, গোটা গ্রহের জন্যই এটা একটা বিপর্যয়। গুতেরেসের এ হেন উদ্বেগের পিছনে দায়ী জুলাই মাস। এ বছর জুলাই মাস পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। জার্মানির লাইপজ়িগ বিশ্ববিদ্যালয় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
তাতে দাবি করা হয়েছে, গত ১ লক্ষ ২০ হাজার বছরে এত উত্তপ্ত জুলাই দেখেনি পৃথিবী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সবচেয়ে উত্তপ্ত জুলাই ছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ১৭৪ বছরের (এই পর্যন্ত তথ্য রয়েছে) রেকর্ড ভেঙেছিল উষ্ণতা। এ বার গরম আরও বেড়েছে।
সাধারণত জুলাই মাসে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা (গ্লোবাল মিন টেম্পারেচর) থাকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালীন তাপমাত্রা জুড়ে এই হিসাব)। এ বছর জুলাই মাসে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১ ডিগ্রি বেশি।
লাইপজিদগের জলবায়ু বিজ্ঞানী কার্স্টেন হস্টেন বলেন, লক্ষ বছর আগে হয়তো এমন উত্তপ্ত পরিবেশ ছিল পৃথিবীর। আমরা সেই জায়গায় ফিরে যাচ্ছি। লক্ষ বছর আগের বিশদ ও স্পষ্ট তথ্য স্বাভাবিক ভাবেই বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। কিন্তু তাতেও আন্দাজ গত ১ লক্ষ ২০ হাজার বছরে এমন গরম দেখেনি পৃথিবী।
গুতেরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল শুরু হয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগ শেষ। পৃথিবী এ বার গরমে ফুটবে। জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে, তা আগেই অনুমান করেছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। বারবার সতর্কও করেছিলেন। শুধু চমকে যাওয়ার মতো বিষয় হল, এত দ্রুত এটা হবে, তা কেউ টের পাননি। করুণ পরিণতি হতে চলেছে। সূত্র: বিবিসি