শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ফেসবুক হ্যাক করে ‘অর্থ’ দাবি করাই তার কাজ!

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩, ৯:৪০ পিএম

বিভিন্ন ব্যক্তিদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ দাবি করার অভিযোগে খুলনার পাইকগাছা থানা এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর সরদারকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার সিআইডি’র সিপিসি’র সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশন বিভাগের একটি টিমের অভিযানে খুলনার পাইকগাছা থানাধীন বৃত্তি গোপালপুর এলাকা থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত একাধিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত অনেকগুলো মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার আলমগীর ‘আপনার ছবি ব্যবহার করে কে বা কারা অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন পোস্ট করছে’ এ জাতীয় থাম্বনেলসসহ ফিসিং লিঙ্ক তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে পাঠাতেন। পরে ভুক্তভোগীরা আগ্রহের বসে ওই লিংকে প্রবেশ করলেই তাদের ফেসবুক আইডিটি হ্যাকার আলমগীরের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতো।

এরপর ভুক্তভোগীদের পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ দাবির প্রক্রিয়া শুরু করতেন আলমগীর। হ্যাক করা ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জার থেকে ফ্রেন্ডলিস্টে যুক্ত বিভিন্ন আইডির মেসেঞ্জারে ‘আমার স্ত্রী অসুস্থ, আমার টাকার দরকার। কয়েকটি নাম্বারে কিছু টাকা পাঠাও’সহ আরও বিভিন্ন ধরনের সাজানো মেসেজ পাঠিয়ে অর্থ চাইতেন।

এছাড়াও ভুক্তভোগীদের কাছে হ্যাক করা ফেসবুক আইডি ফেরত দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করতেন। এভাবে গ্রেপ্তার হ্যাকার আলমগীর হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা।

হ্যাকিংয়ের শিকার একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) এর সাইবার সাপোর্ট ইউনিটে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার নির্দেশে সাইবার পুলিশ সেন্টার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অনুসন্ধান করে। পরে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার আলমগীরকে সনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিআিইডি’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন, ২০২১ সালের জুন থেকে আলমগীর ফ্ল্যাক্সিলোডসহ বিকাশ ও অন্যান্য এমএফএস’র ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি ফ্রী ফায়ার গেমের প্রতি আসক্ত হন এবং এক পর্যায়ে হ্যাকিংয়ের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে।

এরই প্রেক্ষিতে অনলাইন থেকে হ্যাকিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করে এবং বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে ফিশিং লিংক পাঠিয়ে তাদের ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণে নেন আলমগীর। ভুক্তভোগীর পরিচিতদের ফেসবুক মেসেঞ্জারে বানানো তথ্য পাঠিয়ে অর্থ সাহায্য চাওয়াসহ ভুক্তভোগীর কাছে তার হ্যাক করা ফেসবুক আইডি ফেরত দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করতে থাকেন। এখন পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের হ্যাকিংয়ের ফাঁদে ফেলে কৌশলে বিকাশ ও অন্যান্য এমএফএস নাম্বারে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা সিআইডি’র কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com