শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিমানের প্রশ্নফাঁস: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ১০:৩১ পিএম

সম্প্রতি বিমানে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ফের সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংস্থাটির ৯ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর গাড়িচালকসহ অন্তত ২০ জন পলাতক।

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিমানের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত। তাদের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও (অতিরিক্ত সচিব) মো. যাহিদ হোসেন সন্দেহের তালিকায় আছেন। এছাড়া নিয়োগ কমিটির আরও কয়েকজন সদস্য গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। কারণ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া নিম্নপদের কর্মীদের পক্ষে প্রশ্নফাঁস সম্ভব নয়।

এর আগে পাইলট নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, হ্যাঙ্গারে দুই উড়োজাহাজের সংঘর্ষ, টিকিট সিন্ডিকেট, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে অব্যস্থাপনা, উড়োজাহাজ লিজ দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। কিছুতেই যেন বিমানের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছিল না।

এর মধ্যে গত ২১ অক্টোবর বিকেল ৩টায় ১০ পদে জনবল নিয়োগের জন্য পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

পদগুলো হলো, জুনিয়র টেইলর কাম আপহোলস্টার, প্রি-প্রেস অ্যাসিস্ট্যান্ট, জুনিয়র এমটি মেকানিক, জুনিয়র এয়ারকন মেকানিক, জুনিয়র ওয়েল্ডার জিএসই, জুনিয়র পেইন্টার জিএসই, জুনিয়র মেকানিক (টায়ার) জিএসই, জুনিয়র মেকানিক জিএই (ক্যাজুয়াল), জুনিয়র ইলেকট্রিশিয়ান জিএসই (ক্যাজুয়াল) ও জুনিয়র অপারেটর জিএসই (ক্যাজুয়াল)।

তবে পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। তখন পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিমান কর্তৃপক্ষ। পরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তরায় পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।

পরে ওই দিন রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিমানের মোটর পরিবহন অপারেটর জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজ আলম ভূঁইয়া, এনামুল হক এবং অফিস সহকারী আওলাদ হোসেন ও হারুন উর রশিদকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তারা জেলহাজতে। এ ছাড়া এ চক্রের সঙ্গে জড়িত ডিজিএমের (সিকিউরিটি) গাড়িচালক মাসুদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের গাড়িচালক মাহবুব আলী পলাতক। তাদের গ্রেফতার করলে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে ডিবি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, এ নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বিমানের পরিচালককে (প্রশাসন) প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ, বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টারের (বিএটিসি) অধ্যক্ষ এবিএম নাজমুল হুদা, মহাব্যবস্থাপক (জিএসই) তাইজ ইবনে আনোয়ার, মহাব্যবস্থাপক আইটি (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল হক। এর মধ্যে তাইজ ইবনে আনোয়ার মূলত উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) হিসেবে বিমানে যোগ দেন। তবে, একই সঙ্গে মহাব্যবস্থাপক (জিএসই) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়— এ প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত ২২ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা এখনো প্রতিবেদন দিতে পারেননি। কবে দেবেন তাও স্পষ্ট করে বলতে পারেননি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার।

এ ব্যাপারে বিমানের সিইও মো. যাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক, তদন্তে উঠে আসবে। এছাড়া বিমানও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়। এর আগেও কয়েকটি নিয়োগে এমন অভিযোগ উঠেছিল। এবার তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। বাকিদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। আর সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। -বিডিজার্নাল

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com