আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) এই সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে কমিশন।
এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সকালে ভোটগ্রহণ আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে পার্বত্য, হাওর, বাওর, চর বা দ্বীপাঞ্চল বা অনুরূপ দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত ভোটকেন্দ্র অথবা জেলা সদর বা উপজেলা সদর বা মহানগর হতে অধিক ও ভোটকেন্দ্রে গমনের প্রয়োজনীয় সময় ইত্যাদি বিবেচনায় প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার পৌঁছানো সম্ভব হবে না সেসব ভোটকেন্দ্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার তথা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আলোকে রিটার্নিং অফিসার স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ নির্ধারণ করবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যালট পেপার ভোটগ্রহণের দিন সকালে নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য যাচাই-বাছাই করে ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
এর ফলে ভোটে ‘স্বচ্ছতা বাড়াবে’ মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, এটা অনেকের দাবি ছিল। ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার যাওয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৯৬ জনে। এরমধ্যে ২৮টি দলের প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। সোমবার সব আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন।
প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় এখন আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে কমিশন। ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ আসনে একটানা ভোট চলবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও প্রচলিত ব্যালট পেপারে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। প্রতীক নিয়েই প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন।