বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০, দগ্ধসহ হাসপাতালে ৯ জন

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ pm
  • ৪ Time View

কক্সবাজারের ইনানীতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সবিহীন ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায় সম্পূর্ণ বাঁশ ও কাঠের তৈরি তিনতলা এই রিসোর্টটিতে আগুন লাগে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, বাঁশ ও কাঠের তৈরি হওয়ায় একপর্যায়ে পুরো স্থাপনাটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।

জেলা প্রশাসক আ. মান্নান জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের কাছে এখনো অন্তত ছয়জন নিখোঁজ থাকার তথ্য রয়েছে। তাঁরা হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় আহত ৯ জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন, মান্নান (৩২), ফাহমিদা (৩২), মাসুদ (৩০) ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা (৩০), ডা. শিহাব উদ্দিন সাদি (৩১), ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), আশিক (২৮), আইরিন ও ইমা। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে নিচতলায় থাকা রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উখিয়ার ইউএনওর প্রতিনিধির সমন্বয়ে চার-পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের কোনো লাইসেন্স বা অনুমোদন ছিল না। গত জুনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে অগ্নিনিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

মহাপরিচালক আরও জানান, কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার কলাতলী থেকে রিসোর্টটির দূরত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার এবং নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে এর দূরত্ব ২২ কিলোমিটার হওয়ায় দ্রুত পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও সরু রাস্তায় অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষ থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল ব্যবহার এবং দেশজুড়ে আরও ১৩০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com