বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

`সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি’

সিলেট প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ pm
  • ৭ Time View

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাসিষ্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একটা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকে একটা নির্বাচন হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান তাঁর নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। ওই সরকার চেষ্টা করছে অতি দ্রুততার সঙ্গে দেশকে কি করে সেই একটা ভগ্নস্তূপ থেকে আবার জাগিয়ে তোলা যায়। আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম যে, আমরা যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি, তারা অনেকটা আপনার ওই ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায়, সে ধ্বংসস্তুপ থেকে আবার আপনার সামনে উড়ে গিয়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করা হয়।

প্রিয় ভাই ও বোনগণ, গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আজকে যে বিরোধী দল আছেন, সরকারি দল আছেন, আমি মনে করি যে সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে যে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে, সেই সংসদকে ফাংশনাল করা; তাকে যেন কাজ করে ঠিকমতো, সেইভাবে কাজ করার চেষ্টা করা। এবং অন্যান্য বিষয়গুলো দ্বিমত থাকতে পারে, সেই দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।

আমি মনে করি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করবার জন্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের জন্য একটা সত্যিকারের অর্থেই একটা বাসযোগ্য আবাসস্থল যেন আমরা নির্মাণ করতে পারি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেট নগর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোক্তারদীর আহমদ এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, সিলেট সিটি করর্পোশেনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারী।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সিলেট আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। আমি যখনই সুযোগ পাই, আমি সিলেটে আসি। আসি দুটো কারণে,একটা হচ্ছে যে আমাদের সেই অত্যনমশ শ্রদ্ধেড এবং আমাদের যে দুজন এখানে আছেন আউলিডা, তাঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে। আর আপনাদের সান্নিধ্য পেতে। কারণ আমি সিলেটে যতবার এসেছি, সিলেটের বিভাগের বিভিন্ন জেলায়, বিভিন্ন এলাকায় আমি গিয়েছি, আপনারা যে উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছি, চরম দুর্দিনের সময়ও আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন, আমার পাশে ছিলেন,সেজন্য আপনাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি ঠিক আগে যেভাবে কথা বলতাম আপনাদের সঙ্গে, একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে, কর্মী হিসেবে, এখন তো সেভাবে কথা বলতে পারি না। কারণ আমি আপনার শপথ নিয়েছি যে, আমি আপনার সম্পূর্ণ দল নিরপেক্ষভাবে আমি কাজ করব, কথা বলব। আমি বিশ্বাস করি যে, এই কাজটি কঠিন হলেও এটা আমি করার চেষ্টা করব। কারণ বাংলাদেশের সকল মানুষকে নিয়েই তো আমাদের কাজ। সেটা দল-মত নির্বিশেষে এবং বর্ণ, গোষ্ঠী সকলের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাটাই আমাদের মূল কাজ বলে আমি মনে করি।

আমরা যে সিলেটে আজকে এসেছি, এই সিলেট নিজেই অত্যন্ত গর্বিত একটি জায়গা। কারণ এখানে যাদের জন্ম হয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা আপনাদের অনেক গর্বিত সন্তান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আপনাদের বিখ্যাত হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি শীতলং শাহ্, শাহ্ আবদুল করিমের মরমী সৃষ্টি-সম্ভার, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গণসঙ্গীত, সৈয়দ মুজতবা আলীর অনন্য সাহিত্যকর্ম এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মতো কীর্তি ও গৌরবময় ব্যক্তিত্ব এবং অ্যাডমিরাল এম কে খান, এম এইচ খান, তিনিও আপনাদেরই সন্তান। আরও একটি বড় আপনার সম্মান আপনাদের আছে, যে আজকের প্রধানমন্ত্রী আপনাদেরই অত্যন্ত পরম আত্মীয়।

এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আপনাদের মনে থাকার কথা অনেকেই জানেন, যে তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে,তিনি এবং আজকের স্পিকার মেজর হাফিজ, তাঁর নেতৃত্বে, তাঁদের নেতৃত্বে সিলেট এলাকা পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল। তারা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছিলেন এই এলাকায় পাক সেনানায়কদেরকে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আমি আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করব আমাদের অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সাহেবকে, যিনি এই সিলেটের উন্নয়নের রূপকার ছিলেন। কাজ করেছেন দীর্ঘকাল ধরে। আরও অনেকেই করেছেন, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে আরেকজনকে আমি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে স্মরণ করতে চাই, আমাদের গণতন্ত্রের একজন বীর সেনানী। তিনি অনেকদিন আগেই আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন, নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাঁর সহধর্মিণী, আমাদের অত্যন্ত প্রিয় লুনা ভাবি তিনি সামনে বসে আছেন। এটাও আমাদের গর্ব যে তাঁর মতো একজন সাহসী, নির্ভীক, তেজস্বী নেতা আপনাদের এই সিলেটেরই সন্তান ছিলেন।

সিলেটের একটা নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। সেই সংস্কৃতিটা সম্পূর্ণ আলাদা, একটা আইডেন্টিটি আছে তার আলাদা। সেই সংস্কৃতি হচ্ছে আপনাদের মনিপুরীসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিধারা এবং আপনাদের নিজেদের সংস্কৃতিধারা। সিলেটের চা বাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে খ্যাত। সেইজন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।

আরেকটি বিষয় যেটা না বললে একেবারেই অন্যায় করা হবে, সিলেটের প্রবাসী সমাজ। যে প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সবসময়ই।

আমরা সিলেটকে সবসময় ভিন্নভাবে দেখি। দেখি এইজন্য যে, সিলেটের মানুষ তারা একদিকে যেমন অতিথি পরায়ণ, শান্তিপ্রিয়, অন্যদিকে কিন্তু আবার একইসঙ্গে তারা যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সবসময়। এবং অতীতে আমরা সবসময় দেখেছি যে গণতন্ত্রের জন্য সিলেট অনেক অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে।

আপনাদের এখানে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আপনাদের পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা বাগান, বন, হাওর,সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম একটা প্রধান পর্যটন অঞ্চল। এটা আমার মনে হয় যে এটাকে ডেভেলপ করার আরও সুযোগ রয়েছে। আজকে যারা প্রবাসে আছেন, যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তাঁদের এই ইনভেস্ট করার, তাঁরা যদি আরও এগিয়ে আসেন, তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্প সিলেটকে অনেক বেশি উন্নত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এখানে মৎস্য চাষের বড় সুবিধা আছে, আপনাদের হাওরগুলোতে অনেক বেশি সুবিধা আছে এবং এখানে যে খনিজ সম্পদ রয়েছে, সেটা দিয়েও এখানে শিল্প গড়ে উঠতে পারে, অনেক বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com