ছাত্র হত্যা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি চলাকালে দফায় দফায় পুলিশ-শিক্ষার্থী-জনতার সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আট শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকেলে সিলেট-সুনামগঞ্জে সড়কের আখালিয়া, সুরমা আবাসিক এলাকা, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে, মদিনা মার্কেট ও পাঠানটুলা এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। অপরদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোড়েন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে নগরীর সুরমা আবাসিক এলাকা এবং আখালিয়া এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের দিকে এগোতে থাকলে বাধা দেয় পুলিশ। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ঘিরে ধরলে পুলিশ টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে এলে দুদিক থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সেখানে সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ গণমিছিলে স্থানীয় জনতা ও অভিভাবকরাও অংশ নেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে উপস্থিত হতে থাকি। আজকের উপস্থিতি বেশি ছিল। স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। আমাদের মূল ফটকের সামনে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। আমাদের জোর করে রাস্তায় নামানো হয়েছে। রাস্তায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের শতাধিক শিক্ষার্থী-জনতা আহত হয়েছেন। আট জনকে আটক করা হয়েছে বলেও আমরা খবর পেয়েছি।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আজকে কর্মসূচি পালন করছি। পুলিশ পেছন থেকে আমাদের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অনেককে আটক করা হয়েছে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ গণমাধ্যমকে জানান, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে। কিন্তু তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় আট জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।