সিলেট নগরীর একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তার স্ত্রী মালু বেগম (৭৬)। গৃহকর্মীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাসার ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহগুলো দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “ওই ব্যক্তি সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। নিহতের এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। হত্যার প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও পুলিশ এ বিষয়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।”
জানা গেছে, মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার বাসিন্দা হাজী আব্দুস সাত্তার পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি এলাকায় মুরুব্বি এবং একজন আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীর ঘেরা এই বাড়িটিতে প্রবেশ করে। এরপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
একইসঙ্গে তিনজনকে ঘরের ভেতর গলা কেটে হত্যার এই ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।
জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভিতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছে। তবে বাথরুমের ভিতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।