সুনামগঞ্জ-১ আসন ও সুনামগঞ্জ- ৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সুনামগঞ্জে সদর ও তাহিরপুরে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলটির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান ও সুনামগঞ্জ-৪ অসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামস উদ্দীন আহমদ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে সহ¯্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে শোডাউনটি শুরু হয়ে তাহিরপুর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাহিরপুর উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোডাউন শেষে তাহিরপুর বাজারে এক পথসভা বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামস উদ্দীন আহমদ,জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুস সাত্তার মামুন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তোফায়েল আহমদ খান বলেন, অসুর শক্তির হাত থেকে আজও বাংলাদেশ প্রকৃত নিরাপত্তা পায়নি। যারা বারবার ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশটিকে নিজেদের ভোগ-বণ্টনের সম্পদ মনে করেছে। দখলবাজি, লুটপাট আর স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি চালিয়ে তারা কৃষক শ্রমিক ও মজুরের ঘামে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজেদের রাজকোষাগারে ভরেছে। সেই রাজকোষাগার থেকেই অর্থ লুট করে মালয়েশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে তারা বাড়ি বিলাসের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।এই অসুর শক্তির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে এটাই এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র সৎ নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে সত্যিকার অর্থে মুক্ত করা সম্ভব। আমাদের দেশের আজ একটি মৌলিক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। গত ৫৪ বছরে যেভাবে বাংলাদেশ পরিচালিত হয়েছে, সেখানে দুটি মৌলিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত আমরা কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নত অবস্থায় পৌঁছাতে পারব না।
তোফায়েল বলেন, প্রথমত,দেশ পরিচালনার নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এতদিন দেশ পরিচালিত হয়েছে এক ধরনের কঠোর তান্ত্রিক মানসিকতার মাধ্যমে, যার ফলে বৈষম্য, সন্ত্রাস, দুর্নীতি। এসব সমস্যার কোনোটিই দূর করা সম্ভব হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে। একটি সমতাভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে নীতিগত পরিবর্তন অপরিহার্য।
দ্বিতীয়ত, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।অতীতে যারা নেতৃত্বে এসেছে তাদের অনেকেই ছিলেন না প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তারা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তাই দেশের নেতৃত্বে প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষের অংশগ্রহণ। এই কারণেই বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নীতি ও নেতৃত্বের আমূল সংস্কার করে বাংলাদেশকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে সুনামগঞ্জ-১ আসনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা শাসক হতে চাই না, চাই জনগণের প্রকৃত সেবক হতে। আপনাদের সব ভালো কাজের সঙ্গে আগামী দিনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।