সুনামগঞ্জে মুজিব হত্যা মামলায় শ্যালক ও দুলাভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
রোববার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মহিউদ্দি মুরাদ।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মৃত ইয়াছি আলীর ছেলে কনরুল প্রকাশ কামরুল ইসলাম ও একই উপজেলার কেজাউরা গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে এলাইছ মিয়া। কনরুল ও এলাইছ মিয়া সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই।
সূত্র জানায়, এলাইছ মিয়ার সাথে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মুজিবের বিলের ব্যবসা সংক্রান্ত টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০০২ সালের ২২ জুন বিকেলে মুজিব ও তার ছোট ভাই সৈয়দুর রহমান নিজ বসতঘরে বসে সাংসারিক আলাপ করছিল। এসময় আসামি এলাইছ মিয়ার সাথে বিরোধ মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলেন শ্যালক কনরুল ও দুলাভাই এলাইছ মিয়া মুজিবকে ঘর থেকে ডেকে এলাইছ মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাইমা গ্রামের ভাটিপাড়া রাস্তার দক্ষিণে মুজিবের মাথা, নাক,মুখ, বুক,পিঠ, হাত ও শরীরের অন্যান্য স্থানে কোপ এবং ঘাই মেরে হত্যার চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে মুজিবে বাবা আব্দুর রউফ বাদী হয়ে দিরাই থানায় এলাইছ মিয়া, শ্যালক কনরুল ও কেজাউরা গ্রামের মহিম উদ্দিনের ছেলে বাছির আলীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের চার্জসীট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানী সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে এলাইছ মিয়া ও কনরুল প্রকাশ কামরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যককে ২০ হাজার করে টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড সাক্ষ্য প্রমানে প্রমানিত না হাওয়ায় অপর আসামি বাছির আলীকে বেখসুর খালাসের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।