গত ছয়মাসে সারা দেশে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৭৮ জন। একই সময়ে ১৭ হাজার ৮২৬ জন আহত হয়েছেন। এমনটাই বলছে গবেষণা সংস্থা সেভ দ্য রোড।
শুক্রবার (০৪ জুলাই) গবেষণা সংস্থা সেভ দ্য রোডের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১৭ হাজার ৯৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ হাজার ৭৭৮ জন নিহত এবং ১৭ হাজার ৮২৬ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া নৌপথে ৬১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১৪ জন এবং আহত ৪৫১ জন। রেলপথে ৫২৬টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৮৪ জন এবং নিহত ১৪ জন।
আরও পড়ুন: সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা
নিহতদের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিসহ থ্রি হুইলার ধরনের যানবাহন দুর্ঘটনায় ৭৯৫ জন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৬৭৩ জন, বাস দুর্ঘটনায় ৮২৫ জন এবং ট্রাক-পিকআপ-লরি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রতি ৩ কিলোমিটারে পুলিশ বুথ বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন না করা ও হাইওয়ে পুলিশসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ-প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়কপথে ৬ মাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ১১৮টি। ডাকাতদের হামলায় ১০৪ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে নারী শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে ৬১৪টি, ধর্ষণের ঘটনা দুটি।
সেভ দ্য রোডের ৭টি দাবি হলো-
১. মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণা করতে হবে।
২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে।
৩. সড়ক পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেসবিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতীত চালক-সহযোগী নিয়োগ ও হেলপার দ্বারা পরিবহণ চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশপথে দুর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ সরকারিভাবে দিতে হবে।
৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটেলিয়ন’ গঠন করতে হবে।
৬. সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিতকরণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গঠনের আগ পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সব সড়কের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব পরিবহন চালকের লাইসেন্স থাকতে হবে।
৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতুসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা সড়ক, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে আর কোনো প্রাণ দিতে না হয়।