যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টানা কয়েক মাসের হুমকির পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। খবর: রয়টার্সের।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে টানা দেড় ঘণ্টা ধরে কারাকাসের আকাশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং ঘন কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন হয়ে ছিল।
হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগওয়া এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যেও এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। কারাকাসের একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে পেন্টাগন এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে হোয়াইট হাউসের দিকে ইঙ্গিত করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে গত সোমবারই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদুরোকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াকে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার এই তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে স্থল অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এদিকে নিকোলাস মাদুরোর সরকার এই আক্রমণকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের একটি অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করতে পারবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো দাবি করে আসছে যে, গত বছর কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে মাদুরো ক্ষমতায় টিকে আছেন।
এই হামলার আগে থেকেই ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ এবং অত্যাধুনিক ফাইটার জেটের উপস্থিতি বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মাদুরো সরকারের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মাদুরো যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সেজন্যও গোপনে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহেই মাদকবাহী নৌযানগুলোতে প্রথমবার স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও অনেক দেশ এই ধরণের আক্রমণকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। মাদুরো সরকার মাদক পাচারের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিল। সাম্প্রতিক এই হামলার পর ভেনেজুয়েলাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।