শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

‘নিত্যপণ্যের বাজার কারসাজির স্মৃতি মুছে দেওয়া হবে’

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ পিএম

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে কারসাজি-সিন্ডিকেট সব কিছুর স্মৃতি মুছে দেওয়া হবে। এ জন্য যা যা করণীয় সরকার তাই করবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার বর্তমানে টিসিবি কার্যক্রমে ৩২শ থেকে ৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কমিয়ে আনা হবে; কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির ব্যপ্তি আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ‘কৃষকের হাট’ সিলেটের জন্য নতুন একটি উদ্যোগ হলেও সারা বিশ্বের জন্য নতুন নয়। এটা বিভিন্ন দেশে আছে। আমরা বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য কতগুলো নতুন পদক্ষেপ যুক্ত করতে যাচ্ছি। আপনারা জানেন, হঠাৎ করে একটি-দুটি কৃষিপণ্যের দাম লাফ দেয়। কৃষিপণ্য ও আমরা যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য আমদানি করি এগুলোর হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়। এসব পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য এমনকি সারা বছর মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য কতগুলো উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো এই ‘কৃষকের হাট’। এই উদ্যোগ সারা দেশে নেওয়া হবে। যেখানে কৃষকরা যা উৎপাদন করবে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন একটি স্থান নির্ধারণ করে দিবেন। সেই নির্দিষ্ট স্থানে কৃষকরা সবাই মিলে সপ্তাহে একদিন-দুদিন অথবা যে কয়দিন হলে সুবিধা হয়, সেই হাটে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করবেন। যদিও পণ্য পরিবহণ খরচ কৃষকরাই দেবেন, তবুও স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিং থাকায় অন্য কোনো খরচ যুক্ত হবে না বলে প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, প্রথমত- বিভিন্ন সময় শোনা যায় এখানে-সেখানে চাঁদা দিতে হয়। প্রশাসনের নজরদারি থাকায় এখানে চাঁদাবাজি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ও ভোক্তার মাঝখানে একাধিক স্তর থাকে; যে কারণে হাত বদলের কারণে দাম বেড়ে যায়। কৃষকের হাটে কোনো স্তর থাকবে না, যে কারণে কৃষক ও ভোক্তা দুজনই উপকৃত হবেন। অন্যদিকে বাজারেও আর হঠাৎ দাম বাড়ার সুযোগ থাকবে না। এটাই মূলত কৃষকের হাটের উদ্দেশ্য।

এ সময় তিনি আরও বলেন, একইভাবে বাজারে তেল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও যাতে স্থিতিশীল থাকে সে বিষয়েও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে পুরো সাপ্লাই চেইন একটি এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট) মডেলে সংযুক্ত করা হবে। যেখানে আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারের খোঁজখবর রাখতে সহজ হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য যে টিসিবি কার্যক্রম চলছে তা আরও জোরদার করা হবে। টিসিবি কার্যক্রম চালাতে সরকার বছরে ৩২শ থেকে ৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। এটা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে, কম দামে ভোক্তাদের পণ্য সরবরাহ করতে ব্যয় হয়। এই ভর্তুকি কমানো হবে। তবে টিসিবির কার্যকারিতা ও পরিধি আরও বাড়ানো হবে, যাতে আরও বেশি পণ্য আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

এ অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর
আর্কাইভ
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com