দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারক। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে নিয়োগ আদেশে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাঁর প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বিষয়টি জানান। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নতুন প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিনি আজই (৩০ ডিসেম্বর) অবসরে গেছেন। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ দান করবেন।’
নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ফাইলে রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর হয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আবদুল গোফুর মোল্লা এবং মা মরহুম নূরজাহান বেগম। কর্মজীবনে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী খুলনা সিটি করপোরেশন, কুষ্টিয়া পৌরসভা, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০১ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনে স্থায়ী বিচারপতি হন তিনি।