পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, আগামী ৭ই মার্চের মধ্যে সুনামগঞ্জের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে। এতে কোন অজুহাত চলবে না। তিনি বলেন, কৃষকের কষ্টের ফলানো সোনালী বোরো ধান গোলায় না তোলা পর্যন্ত সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। খুব জরুরী প্রয়োজন না হলে কেউ ছুটি নিতে পারবে না।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ) রাতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার জনপ্রতিনিধ,সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাত ৮ টায় শুরু হয়ে এ সভা চলে রাত ১১টা পর্যন্ত ।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপমন্ত্রী আরও বলেন,কৃষকদের ফসল ঘরে উঠানো জন্য ও হাওরের রক্ষা বাঁধের স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধের কাজে কেউ অনিয়ম দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।হাওরের কৃষকের ফসল ঘরে তুলে দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত হাওর অঞ্চলের কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। কারণ তিনি কৃষকের মুখে স্থায়ী হাসি দেখতে চান।
তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণে কোন দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এবার নির্বাচনের বছর। আমরা দ্রæজ কাজ চাই।
উপমন্ত্রী বলেন, হাওরের জন্য স্থায়ী প্রকল্পের চিন্তাভাবনা করছি। পাউবো ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে উপমন্ত্রী আরও বলেন, টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করবেন। সাংবাদিকরা আমদের প্রতিপক্ষ না। আপনার যেখানে যাবেন সেখানে সাংবাদিকদের নিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, যারা ভাল কাজ করবে তাদের পুরষ্কৃত করা হবে। আর যারা কাজ ঠিকমতো করবে না তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে উপজেলায় ঠিকটাক কাজ হবে না। সেই উপজেলার ইউএনও এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ – ৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মল্লিক সাঈদ মাহমুদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত।
সভার শুরুতে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার প্রজেক্টরের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
আরও বক্তব্য রাখেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যনা করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সুনামগঞ্জ রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)এর সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা আল হেলাল প্রমুখ।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ বলেন, সুনামগঞ্জের নদী খনন করতে হবে। নদী খনন করা হলে আগাম বন্যার ঝুকি অনেকটা কমে আসবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, টাংগুয়ার হাওর আমদের ঔতিহ্য। নজরখালি বাঁধ দিয়ে এটি জীববৈচিত্র র্ধ্বংশ করা যাবে না।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও হাওর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী ও খাল পুন: খননের জন্য স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন কাজের পর্যবেক্ষণ বিষয়ক জেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটির সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দিরাই উপজেলার চাপতির হাওরের চাতল কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ গত ১০ জানুয়ারি জেলা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় অনুমোদন দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত কি কারণে বাঁধটির কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে না এবং ওই হাওরের বৈশাখীর বাঁধের গর্ত ভরাট প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রথমে ধারনা করা হচ্ছিল বৈশাখীর বাঁধের গর্ত ভরাট করলেই হবে। এখন গর্ত ভরাট করা যাচ্ছে না। দ্রæতই চাতল কম্পার্টমেন্টাল বাঁধের কাজের কার্যাদেশ দেয়া হবে।
সভায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুশি মোহন দাস, সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ড. আসাদুজ্জামান সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী-২ শামছুদ্দোহা, বাংরাদেশ টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আইনুল ইসলাম বাবলুসহ জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
হিরপুর উপজেলার বৃহৎ শনির হাওরের বাঁধ ও টাংগুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ পরিদর্শন।