শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশ ভয়েস ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৪, ৩:৩৯ পিএম

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৪ বছরে বেড়েছে ১৩ দফা। এতে ক্যাপাসিটি চার্জ মডেলে এ খাতের সুবিধাভোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পকেটে গেছে কমপক্ষে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা। এ তথ্য উঠে এসেছে সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে। অস্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়ায় কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটের কথাও বলা হয়েছে এতে।

২০১০ সালের শুরুতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় দাম যেখানে ছিলো ৩.৭৩ টাকা, বর্তমানে তা গিয়ে ঠেকেছে ৮.৯৫ টাকায়। এ ১৪ বছরে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৪০ শতাংশ।

প্রশ্ন ওঠেছে, বিদ্যুতের এ দাম বাড়ানোটা কি অনিবার্য ছিলো, নাকি এটি লুটপাটের নীলনকশা? এ সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ১৩ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে দুর্নীতির মহোৎসবকে দায়ী করছেন অনেকে।

এবার আসা যাক, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রসঙ্গে। এর উৎপাদন আর সক্ষমতা — এ দুয়ের মধ্যে আদর্শ ফারাক বিবেচনা করা হয় ১০ থেকে ২০ শতাংশ। কিন্তু দেশে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে অস্বাভাবিক হারে, যা গ্রীষ্মে গড়পড়তা উৎপাদনের তুলনায় দ্বিগুণ, আর শীতে স্বাভাবিক উৎপাদনের তিনগুণ। আর এখানেই যত শুভঙ্করের ফাঁকি!

উৎপাদনে নেই, তারপরও অলস বসিয়ে পরিশোধ করা হচ্ছে প্ল্যান্টগুলোর ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ, যাকে লুটেরা মডেল হিসেবে আখ্যা দেয়া হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান আইএমইডির এক প্রতিবেদনে। আর এ মডেলে গত ১৪ বছরে সুবিধাভোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পকেটে গেছে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা।

গ্রাফিক্স চিত্রে ক্যাপাসিটি চার্জ পাওয়া শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকা।

ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এটিকে লুণ্ঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি উন্নয়ন ছিল না; বরং লুণ্ঠন করার জন্য যেসব কাজ করা হয়েছে সে সবের মধ্য দিয়ে টাকা চলে গেছে অন্যত্র। যাকে খুশি তাকে, যেমন খুশি তেমন ব্যয়ে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে।

একই মত পোষণ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, চাহিদার ভিত্তিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা এটা কখনোই করেনি। অতিরিক্ত পাওয়ার প্ল্যান্ট করেছে এবং এটার জন্য যারা মালিক তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। আর তার জন্য দুর্নীতি এবং আয়কর পরিকল্পনা দায়ী।

বিদ্যুৎ খাতে নানা অনিয়মের মাশুল গুনতে হয়েছে বড় অংকের লোকসান আর ভর্তুকি টেনে। দফায় দফায় দাম বাড়ানোর পরও বছরে ঘাটতি ছাড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর গত দেড় দশকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার ৬৫ শতাংশই গেছে ক্যাপাসিটি চার্জের পেছনে।

এছাড়া, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আর অস্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়ায় শত শত ডলার বা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের তথ্য এসেছে খোদ সরকারি প্রতিবেদনেই।

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশ ভয়েস।
jphostbd.com